জেনে নিন লেবুর কিছু অজানা গুনাগুন ও ব্যবহার

রসে ভরা লেবুর সুগন্ধেই হতে হয় মোহিত। ঘ্রানেই যেন খাবারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিগুনে ভরপুর লেবুর রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। জ্বর, কাশি, ক্ষুধামন্দা ও বমি নাশক। কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা পান করলে মেদ কাটে। লেবু-মধু-পানি খুব জনপ্রিয়। ফ্যাট কাটাতে এর জুড়ি নেই। লেবু রুচি বাড়ায়, কৃমি নাশক। গরমভাতে বা ডালের সাথে কাগজি লেবুর রস রীতিমত অমৃত স্বাদ। কাগজি লেবুর আচারও খেতে সুস্বাদু। ১০০ গ্রাম লেবুতে ভিটামিন সি আছে ৬৩ মিলিগ্রাম, যা আপেলের চেয়ে ৩২ গুন এবং আঙ্গুরের দ্বিগুন। ক্যালসিয়াম আছে ৯০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামি বি .১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ .৩ মিলিগ্রাম।

রূপ চার্চায় লেবু বিভিন্নভাবে ব্যবহার হয়। লেবুর রস মাথায় দিলে খুশকি দুর হয়। চুলের গোড়া মজবুত করে। রূপ লাবন্য ধরে রাখতে লেবুর জুড়ি নেই। ঠোট ফেটে যায়। অমসৃন, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে লেবুর রস ঠোটে লাগাতে পারেন। অধর হবে স্ফীত, কোমল, মসৃন। লেবুর রসে আছে সাইট্রিক এসিড। যা ত্বকের তেলতেলে ভাব দুর করে। ত্বক উজ্জ্বল করে। বলিরেখা অনেকেরই মাথা ব্যাথার কারণ। লেবুর রস দিয়ে রাখুন পনের মিনিট। বলিরেখা দুর হবে। ডাবের পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন।

এতে ত্বক মসৃন, কোমল, উজ্জল হবে। অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে লেবুর রস ত্বকে লাগানো যায়। এতে করে ত্বকের খসখসে ভাব দুর হয়। নাকের উপর ব্ল্যাক হেড। কী বিশ্রী ব্যাপার। লেবুর রস নাকে লাগিয়ে বসে থাকুন। পরে ঘষা দিলে ব্ল্যাক হেড উঠে যাবে। মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে তুলার সাহায্যে গালে লাগালে গাল উজ্জ্বল হবে। গাজরের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে লাগালে ব্রনের দাগ দুর হয়।

লেবুর রসেই যে সব উপকার তা কিন্তু নয়। লেবুর খোসায় প্রচুর উপকারী উপাদান আছে। যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, পেকটিন, ফাইবার, মিনারেলস। লেবুর খোসা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় খাবার ভালো হজম হয়। অন্ত্র পরিস্কার থাকে। এর পেকটিন অন্ত্রের শর্করা শোষন করে। যা ওজন কমাতে সহায়ক। লেবুর খোসা খেলে শর্করা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিপাক ভালো হয়। যা ডায়াবেটিস রোগীরদের উপকারে আসে। লেবুর খোসায় ক্যালসিয়াম থাকে।

যা হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই দরকারী। দৈনিক অল্প একটু সামান্য লেবু খেয়ে ভিটামিন সি এর চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। ভরপেট খেলেন। বেশ অস্বস্থি লাগছে। গরম পানিতে একটু লেবুর রস খেতে পারেন। পাকস্থলীতে কিছু গ্যাস তৈরী হলেও তা চলে যাবে। বেশ আরাম বোধ করবেন। হালকা গরম পানিতে লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস থাকা ভালো। চিকিৎসকরাই এমন বলেন। শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়। এতে লিভারও ভালো থাকে।

লেবুতে অনেক উপকার আছে বটে। তবে বেশি খেলে অপকারও হতে পারে। লেবুর সাইট্রিক এসিড দাতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। লেবু পানি খেয়ে দাঁত মাজা ভালো। অন্তত দিনে দু’বার দাত ব্রাশ করতে হবে। অতিরিক্ত লেবু খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতেও পারে। ভিটামিন সি প্রয়োজন। প্রতিদিন ১২০ মিলি লিটার লেবুর রস খাওয়া যাবে। চিকিৎসকরা ১২০ মিলি লিটারের বেশি খাওয়া সমর্থন করেন না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*