সেলুনে পাঠাগার, অপেক্ষার সময় কাটছে বই পড়ে

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বেশকিছু সেলুনের দেওয়ালের সেলফে সাজানো রয়েছে বই। সময় পেলেই ক্ষৌরকার ও সেলুনে আসা লোকজন সেলফ থেকে নামিয়ে নিজের পছন্দের বইটি পড়ছেন। এটা কোনো নাটক বা সিনেমার কল্পকথা বলছি না।

উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের পাদুরবাড়ি বাজারে রমেশের হেয়ার সেলুনে আসলেই এমন দৃশ্য দেখা যাবে। তাছাড়াও মুক্তাগাছা পৌরসভা ভিতরে ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ২০টি সেলুনে রয়েছে এমন মিনি পাঠাগার।

পৌরসভার ভিতরে ৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪টি সেলুনে এই সেলুন পাঠাগার স্থাপন করে জ্ঞানচর্চার অনন্য এক নজির স্থাপন করলেন ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মনসুর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের সার্বিক সহযোগিতায় সেলুনে আসা সাধারণ মানুষের অলস সময়কে কাজে লাগিয়ে মানুষের মাঝে বইপড়ার অভ্যােস চালু রাখতে এ মিনি পাঠাগার তৈরির পরিকল্পনা করেন ইউএনও। প্রতিদিন অনেক লোকজন সেলুনে আসেন। আবার কাজ না থাকলে ক্ষৌরকারদের অনেকেই বসে অলসতায় সময় পার করেন। সেই সময়ে সেবা গ্রহীতা ও ক্ষৌরকারা যাতে করে বই পড়ে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে অলস সময়টা কাজে লাগাতে পারেন তারই একটি মহতি উদ্যোগ এই সেলুন পাঠাগার।

কবি ও আবৃত্তি শিল্পী মিহির হারুন যুগান্তরকে বলেন, বই মানুষের জ্ঞান অর্জনের মূল স্তম্ভ। বইপড়ুয়াদের মেধা ও জ্ঞানকে বিকশিত করে বই। আমাদের সব অপেক্ষার কোণগুলো ভরে উঠুক পাঠে-পুস্তকে।

পাঠাগার তৈরি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মনসুর যুগান্তরকে বলেন, কয়েকমাস আগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ আমাকে ফোন করে বলেন, সেলুনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষায় থেকে অনেক মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। প্রত্যেক সেলুনে খুদে পাঠাগার করলে কেমন হয়?

তিনি বলেন, স্যা রের মতামত অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় স্পেস বেশি এবং ডাস্ট কম হবে এমন ২০টি সেলুন (পৌরসভার সীমানাধীন ৬টি এবং ইউনিয়নগুলোতে ১৪টি) খুঁজে বের করলাম। মিনিস্ট্রি থেকে প্রতি সেলুনের জন্য ১৭টি করে বই এবং সেলফ তৈরির জন্য৬ নগদ কিছু টাকা পেয়ে কাঁঠমিস্ত্রি ডেকে সেলফ বানানোর মাধ্যমে সেলুন পাঠাগার স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই সবার ভিতরে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হোক।

সেলুনে চুল কাটাতে আসা আজিজুল ইসলাম আরজু বলেন, আমার জীবনে সিনেমাতেও কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। অন্যেরকম একটি উদ্যোগ। ধন্যবাদ ইউএনও মুক্তাগাছাকে।

সেলুন মালিক শ্রী রমেশ রবি দাস বলেন, আমাদের সেলুনে এখন অন্যনরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে অলস সময়ে লোকজন ও আমরা মোবাইলে গান-বাজনা ও লুডু খেলে সময় পার করতাম এখন সেখান বইপড়ে সময় কাটাতে পারছি এর থেকে আনন্দ আর কী হতে পারে বলুন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইউএনও অফিস ও ২০টি সেলুনে বই এবং সেলফ হস্তান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সেলুন পাঠাগার। পাঠাগারগুলোতে পাঠকগণ পাবেন বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ এছাড়াও থাকছে প্রধানমন্ত্রীর লেখা বই, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, জাহানারা ইমাম, হুমায়ূন আহমেদ, ড. জাফর ইকবাল, আনিসুল হকসহ অনেক প্রথিতযশা লেখকের বই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*